জুলিয়া জাহান
১৪ জুন ২০২৫, ২:০০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুর কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের কবলে সাধারণ মানুষ

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের কবলে সাধারণ মানুষ

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল চক্রের কবলে সাধারণ রোগীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু চিকিৎসকই এই দালালচক্রের সাথে সরাসরি যুক্ত।

ভুক্তভোগী বিলকিস বেগম ও মোহসিন নামের দুই রোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালে সামান্য পেট ব্যথার মতো রোগের জন্যও ডা. ফাহিম ও আরএমও (রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার) ডা. জাহিদ অত্যধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন, যার বিল দাঁড়ায় ১ থেকে ২ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি।

রোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ওষুধ না দিয়ে তাদের নির্দিষ্ট বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়। এসব ফার্মেসির সাথে চিকিৎসকদের কমিশনভিত্তিক চুক্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথেও রয়েছে একই ধরনের লেনদেনের সম্পর্ক। এসব কেন্দ্রে রোগী পাঠিয়ে আর্থিক সুবিধা নেন কর্মরত চিকিৎসকগণ।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দালালদের সরব উপস্থিতিও চোখে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, আরএমও ডা. জাহিদ ও ডা. ফাহিম এসব দালালদের সুবিধাজনক অবস্থান করে দিয়েছেন হাসপাতালের ভেতরেই। এর মাধ্যমে তারাও লাভবান হচ্ছেন।

বিলকিস বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, আমি আমার মাকে নিয়ে এসেছিলাম ছোট একটি পোরার অপারেশনের জন্য। কিন্তু ডা. ফাহিম আমার কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ১ হাজার টাকা দিলে অপারেশনটা করে। হিসেব করলে দেখা যায় প্রাইভেট হসপিটালের সমপরিমান টাকা বিল হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে শুধু দালাল আর দালাল। মনে হয় দালালেরাই হাসপাতালের চালিকা শক্তি। কর্তৃপক্ষ যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভর্তিকৃত রোগী অভিযোগ করেন, এখানে আমাদেরকে একটি স্যালাইনও বিনামূল্যে দেওয়া হয়নি। সবকিছুই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। এমনকি কিছু বেডে বিছানার চাদর পর্যন্ত সঠিকভাবে সরবরাহ করা হয় না।

গত এক সপ্তাহে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এসব বিষয়ে জানতে বুধবার (১১ জুন) সরেজমিনে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আরএমও ডা. জাহিদ ও ডা. ফাহিমের সঙ্গে কথা হয়।
এ সময় ডা. জাহিদ সরাসরি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অপরদিকে ডা. ফাহিম বলেন, আমার নামে জরুরি বিভাগে আরও একজন আছেন, হয়ত তারা তাকে নিয়ে কথা বলছেন। অথচ ভুক্তভোগী বিলকিসসহ একাধিক রোগী সরাসরি ২৩ নম্বর কক্ষটি দেখিয়ে বলেন, এই রুমেই ডা. ফাহিম বসেন এবং তিনিই নির্দিষ্ট ফার্মেসিতে পাঠিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য নেওয়ার সময় ডাক্তার কর্তৃক অন্য একজন স্টাফ দ্বারা গণমাধ্যম কর্মীদের ছবি ও ফুটেজ তুলে রাখেন এই দুই ডাক্তার।‌
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহেল রানার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বিষয়টির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী প্রতিবেদনে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদে তীব্র বাকবিতণ্ডা, সরকার-বিরোধী দল মুখোমুখি

পুলিশের ১৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার, রিমান্ডে হাফিজুর

ইউনিসেফের সহায়তায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেবে সরকার

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষায় জামায়াতকে ধন্যবাদ জানালেন মাহমুদা মিতু

মাধবপুরে পিএমকের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ২৯০ রোগী

ট্রাম্পের ইউ-টার্ন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি

সিদ্ধিরগঞ্জে অর্ধশতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোনারগাঁয়ে ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, কেন্দ্রসচিবকে অব্যাহতি

সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে এমপি, ইউএনও

১০

সোনারগাঁয়ে যাত্রীবেশে কৌশলে অটো-মিশুক ছিনতাই

১১

সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে খোকন মেমোরিয়াল হসপিটাল

১২

এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৩৭ শিক্ষার্থী

১৩

সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতা চাইলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ

১৪

দৌলতপুরে ব্রাশফায়ারে গুলিবিদ্ধ ১০

১৫

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন তফসিল ঘোষণা

১৬

কিশোরগঞ্জে ফিরলেন পরিচিত মুখ: নতুন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন

১৭

জ্বালানিতে সংকট নয়, ‘প্যানিক বায়িং’-এ কৃত্রিম সংকট

১৮

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সরকারের

১৯

সাংবাদিক নূরনবী জনির মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে দোয়া কামনা

২০