হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দেশটির হবু প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার ঘোষণা দিয়েছেন—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হাঙ্গেরির মাটিতে পা রাখলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা International Criminal Court ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
পিটার ম্যাগিয়ার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার আইসিসির সদস্যপদ বজায় রাখবে এবং আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবে।
তিনি বলেন, “হাঙ্গেরি আইসিসির সদস্য হিসেবে থাকবে। আমাদের দেশে যদি এমন কেউ প্রবেশ করেন যার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাহলে তাকে অবশ্যই হেফাজতে নিতে হবে।”
এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন ম্যাগিয়ার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান ছিলেন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তাকে সুরক্ষা দিতে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন।
তবে নতুন নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।
এর মধ্যেই আগামী শরতে নেতানিয়াহুর হাঙ্গেরি সফরের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ম্যাগিয়ারের এই কড়া অবস্থান সেই সফরকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তবে ইউরোপের সব দেশ একই অবস্থানে নেই। ফ্রান্স ও ইতালি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে—কূটনৈতিক দায়মুক্তির কারণে তারা হয়তো নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিসি সনদের ৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক থাকায় অনেক দেশই এই বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছে।
তবে হাঙ্গেরির নতুন নেতৃত্বের এই ঘোষণা ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে—আন্তর্জাতিক আইন ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু তার নির্ধারিত হাঙ্গেরি সফর বজায় রাখেন, নাকি নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজেন।
মন্তব্য করুন