বাস্তব জীবনের কিছু গল্প অনেক সময় কল্পনাকেও হার মানায়। দক্ষিণ কোরিয়ার আনসানের খুদেপিয়ংওয়ান হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা কোরীয় নাগরিক চংওয়াং জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে তিনি বাংলাদেশি আলেম মুফতি ফয়জুল্লাহ আমানের হাতে কালিমা পড়েন এবং ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেন।
চংওয়াংয়ের এই হৃদয়স্পর্শী পরিবর্তনের পেছনে আছেন তার স্ত্রী লিলা, যিনি বাংলাদেশের সোনারগাঁয়ের। প্রায় ১৪–১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নামমাত্র শাহাদা পড়লেও চংওয়াং তখন ধর্মীয় জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন না। মৃত্যুর প্রান্তে, স্ত্রী লিলার ধৈর্য ও মায়ার অনুপ্রেরণায় তিনি নতুন করে তওবা করে কালিমা পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
হাসপাতালে সেই মুহূর্তের খবর কোরিয়ায় থাকা বাংলাদেশি যুবক ইমনের মাধ্যমে মুফতি ফয়জুল্লাহ আমানের কাছে পৌঁছায়। মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান জানান, চংওয়াং এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন এবং ডাক্তাররা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছেন। সেই বিছানায় শুয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান বলেন, “মৃত্যু কোনো বিলয় নয়, এটি এক রূপান্তর। মানুষ বিলুপ্ত হয় না, কেবল এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত হয়। যদি এই জীবনে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর হয়, পরের জীবন আরও শক্তিশালী ও অর্থবহ হবে।”
মুফতি জানান, এ পর্যন্ত তার হাতে প্রায় ৮০ জন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি চংওয়াংয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ চরম অসুস্থ ব্যক্তিকেও সুস্থ করতে পারেন। আর যদি হায়াত না থাকে, তবে যেন ঈমানের সঙ্গে তার মৃত্যু নসিব হয়।”
বর্তমানে চংওয়াং আনসানের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক কোরীয় নাগরিকের ঈমানি রূপান্তর কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন