রাজধানীজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধারের নৃশংস ঘটনায় ডিবি পুলিশ উন্মোচন করেছে ভয়াবহ সত্য। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহের গেটের পাশে দুটি নীল ড্রামে পাওয়া যায় তার খণ্ডিত দেহ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি করা হয়েছে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজুল ইসলামকে।
ডিবি সূত্র জানায়, ঘটনার মূলে রয়েছে শামীমা আক্তার নামে বিবাহিত এক নারীকে কেন্দ্র করে ত্রিভুজ পরকীয়া। মালয়েশিয়া প্রবাসী জরেজুলের সঙ্গে তিন বছর আগে ফেসবুক–মেসেঞ্জারে শামীমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশে আসার পর দু’জনের শারীরিক সম্পর্কও হয়। পরে জরেজুলের মাধ্যমে শামীমার সঙ্গে পরিচয় হয় আশরাফুলের। সেখান থেকেই শুরু ত্রিমুখী পরকীয়ার টানাপোড়েন।
জরেজুল ঢাকায় দক্ষিণ ধনিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে ওঠেন শামীমা। পরে সেখানে আশরাফুলও যাতায়াত শুরু করলে সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে। ডিবি জানায়, এক পর্যায়ে শামীমা ও আশরাফুলের শারীরিক সম্পর্ক দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান জরেজুল। পরে আবার ফিরে এসে লুকিয়ে থাকেন।
রাতে শামীমা ও আশরাফুলের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জরেজুল। এরপর তিনি আশরাফুলকে বালিশ চাপা দিয়ে ধরেন। ঘরে উপস্থিত শামীমাও তখন পাশে ছিলেন। একপর্যায়ে জরেজুল হাতুড়ি দিয়ে আশরাফুলের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ডিবি জানায়, হত্যার পর লাশ দুই দিন বাসায় রেখে বাটির মতো করে ২৬ টুকরো করা হয়। পরে দুটি ড্রামে ভরে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় ঈদগাহের সামনে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর দু’জনেই কুমিল্লায় পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের চোখে পড়ে ড্রাম দুটি। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধারের পর সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করে দ্রুত শনাক্ত হয় মৃত আশরাফুলের পরিচয়। পরে ডিবি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাত ১০টায় কুমিল্লা থেকে জরেজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব-৩ লাকসাম থেকে গ্রেপ্তার করে শামীমা আক্তারকেও।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, ত্রিমুখী পরকীয়ার জেরে পরিকল্পনাবিহীন উত্তেজনা থেকে সংঘটিত হয়েছে এ নৃশংস হত্যা। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং মামলার আইনগত প্রক্রিয়া বহাল রয়েছে।
মন্তব্য করুন