ঢাকা: রাজধানীর মানিকদি এলাকার একটি ছোট্ট ভাড়া বাসা থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে উদ্ধার করা হয় সাইক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী আফসানা ফেরদৌসের নিথর দেহ। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে রেকর্ড করে পুলিশ, তবে পরবর্তী তদন্তে উঠে আসে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ। আফসানার সঙ্গে তৎকালীন তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি রবিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সেনানিবাস সংলগ্ন মানিকদিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হলে আফসানাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। মামলায় রবিনসহ কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের গতি মন্থর হয়ে পড়ে। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলাটি এখনো আদালতে ঝুলে আছে। একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা বদল হওয়ায় প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক শিথিলতা ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী নারী হত্যার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আনার কথা থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের অধিকাংশ মামলা বছরের পর বছর বিলম্বিত হয়। আফসানার মামলাও তার ব্যতিক্রম নয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্যগ্রহণের সমাপ্তি আজও হয়নি, অভিযুক্তদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতি বছর আগস্ট মাসে সহপাঠী ও মানবাধিকার কর্মীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে আফসানার স্মরণে দাঁড়ান এবং দাবি জানান দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার। তাদের মতে, “ন্যায়বিচার বিলম্বিত মানেই ন্যায়বিচার অস্বীকৃত।” দশ বছর পরও আফসানার নাম উচ্চারিত হয় ন্যায়বিচারের প্রতীকে। নগরীর দেয়ালে দেয়ালে আজও লেখা থাকে— “তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম।”
মন্তব্য করুন