রাজশাহীতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৮ জন নারী-পুরুষ ও একজন হিজড়া এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে ৯৩ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর সংক্রমণ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি হারে।
চিকিৎসকরা জানান, রাজশাহীতে যৌনকর্মীর মাধ্যমে নয়, বরং সমকামিতার মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ ঘটছে বেশি। ২০২৫ সালের আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষে-পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন, ১০ জন যৌনকর্মী, এবং একজন রক্তের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন।
রামেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষা করাতে আসেন। পজিটিভ রোগীদের কাউন্সেলিং করা হলেও এখানে এখনো ওষুধ সরবরাহ করা হয় না; তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক)-এ যেতে হয় ওষুধ নিতে।
রামেকের ফোকাল পার্সন ডা. ইবরাহীম মো. শরফ বলেন, “এইচআইভি ছড়ানোর প্রধান কারণ হলো অরক্ষিত যৌনমিলন—নারী-পুরুষে বা পুরুষে-পুরুষে উভয় ক্ষেত্রেই। এছাড়া মা থেকে শিশুর মধ্যেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই নিরাপদ যৌন আচরণ ও নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি বলেন, “রাজশাহীতে এআরটি সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে। সেটি চালু হলে এখানকার রোগীরা আর বগুড়ায় যেতে হবে না।”
রামেকের কাউন্সেলর রেজাউল করিম জানান, “অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, কেউ কেউ আত্মহত্যার চিন্তাও করেন। নিয়মিত কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা থাকলে তারা সুস্থভাবে বাঁচতে পারেন।”
মন্তব্য করুন