আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, তাতে নতুন ও পুরোনো মুখের সমন্বয় ঘটেছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও প্রয়াত নেতাদের উত্তরসূরিদের মনোনয়ন দিয়ে দলটি বার্তা দিয়েছে ঐক্য ও ধারাবাহিকতার।
ঘোষিত তালিকায় দেখা গেছে, সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে মোহাম্মদ নওশাদ জমিরকে পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়েছে। নাটোর-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল।
কুষ্টিয়া-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ চৌধুরীর ছেলে রাগীব রউফ চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।
যশোর-৩ আসনে সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আবারও প্রার্থী হয়েছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন ঢাকা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা-৬ আসনে।
ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা, আবারও ধানের শীষের প্রার্থী। একই জেলার ফরিদপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
এছাড়া মৌলভীবাজার-৩ আসনে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমান, চট্টগ্রাম-৫ আসনে মীর নাছির উদ্দিনের ছেলে মীর হেলাল, চট্টগ্রাম-৭ আসনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা মনোনয়ন পেয়েছেন।
গাজীপুর-৪ আসনে আ স ম হান্নান শাহর ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ, মানিকগঞ্জ-২ আসনে সাবেক মন্ত্রী শামসুল ইসলাম খানের ছেলে মঈনুল ইসলাম খান, আর ময়মনসিংহ-৯ আসনে আনওয়ারুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরী লড়বেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে।
শেরপুর জেলার তিনটি আসনেই এবার বিএনপি প্রার্থিতা দিয়েছে রাজনৈতিক পরিবার থেকে আগত তরুণদের হাতে। শেরপুর-১ আসনে হযরত আলীর মেয়ে চিকিৎসক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, শেরপুর-২ আসনে প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, এবং শেরপুর-৩ আসনে সাবেক এমপি সিরাজুল হকের ছেলে মাহমুদুল হক রুবেল ধানের শীষের প্রার্থী।
এছাড়া গাজীপুর-২ আসনে সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নানের ছেলে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, ঝিনাইদহ-৩ আসনে সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান, আর পিরোজপুর-২ আসনে সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের ছেলে আহমেদ সোহেল মঞ্জু সুমন প্রার্থী হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এ পদক্ষেপ দলের ঐতিহ্য ও তরুণ নেতৃত্বকে একসঙ্গে সামনে আনছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, “প্রবীণ ও প্রয়াত নেতাদের উত্তরসূরিদের অংশগ্রহণ নির্বাচনে বিএনপির জন্য ইতিবাচক ফল আনতে পারে।”
স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “যে নেতারা প্রয়াত, তাদেরও একটি ভোটভিত্তি থেকে যায়—সেই ভিত্তিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা দলের শক্তি হয়ে উঠবেন।”
আর তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “নতুনদের সঙ্গে অভিজ্ঞদের এই মিশেলই হতে পারে একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা।”
মন্তব্য করুন