অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ পাঁচটি প্যানেলের ভোট বর্জন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবির মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এখন চলছে ভোটগণনা। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১২টি আবাসিক হলের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। বাকি ৯টি হলের গণনার কাজ চলছে। সব হলে ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রীয় সংসদের ব্যালট গণনা শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য জানান, দুটি টেবিলে একসঙ্গে ভোট গণনার কাজ চলছে। ভোরের দিকে কয়েকটি হলের প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত না থাকায় সাময়িকভাবে গণনা বন্ধ ছিল। তবে যেসব হলে এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন, সেসব হলে ভোট গণনা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় শুরু হয়ে টানা ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টায় শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ২১টি কেন্দ্রের ২২৪টি বুথে ভোট নেওয়া হয়। জাকসুর ২৫টি পদের জন্য ১৭৭ জন এবং ২১টি হল সংসদের ৩১৫টি পদের জন্য ৪৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন ভোটারকে মোট ৪০টি ভোট দিতে হয়েছে।
জাকসু নির্বাচনে আটটি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটি প্যানেল ভোট বর্জন করলেও তিনটি বর্জন করেনি। এগুলো হচ্ছে—বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) সমর্থিত প্যানেল শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন। নির্বাচনে ভোটার ১১ হাজার ৮০৫ জন। ২১টি হলে ভোট পড়েছে আট হাজার ১৬টি। গড় ভোটের হার ৬৭.৯ শতাংশ।সর্বোচ্চ ভোটের হার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ৮১.৪৩ শতাংশ, সর্বনিম্ন ভোটের হার নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ৪৮.৯৩ শতাংশ।
ভোট চলাকালে জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীরা নির্বাচন ঘিরে অস্বচ্ছতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছেন। একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন। এমনকি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলসহ পাঁচটি প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে বিকেল সাড়ে ৩টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানান, নির্বাচনের পরিবেশ যথেষ্ট সুষ্ঠু রয়েছে। পরিবেশটা আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বাকি সব জায়গায় স্বাভাবিকভাবেই ভোট চলছে।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী বলেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা সারা দিন হলে ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন আবার সিনেট ভবনে গণনার দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা ক্লান্ত। এ কারণেই গণনা কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে।