
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনের আগে সরকারের কাছে ‘তিনটি আবশ্যিক দায়িত্ব’ পালনের আহ্বান জানিয়েছে। এই তিনটি হচ্ছে—গণহত্যাকারীদের বিচার, কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত।
বুধবার রাজধানীর বাংলা মোটরের রূপায়ন টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি জানান, ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রকে ‘অসম্পূর্ণ’ মনে করছে এনসিপি।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এনসিপি যেসব দাবি জানিয়ে আসছে, তার অনেক কিছুই ঘোষণাপত্রে অনুপস্থিত। বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ এবং শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা উল্লেখ না করাকে বড় ঘাটতি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
এনসিপির মতে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে শহীদের সংখ্যা ১,৪০০ বলা হলেও ঘোষণাপত্রে তা বলা হয়েছে ‘প্রায় এক হাজার’। আখতার বলেন, শহীদদের ‘জাতীয় বীরের’ মর্যাদা, শহীদ ও আহতদের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনকারীদের আইনি নিরাপত্তা অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্যভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর, কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর অনুপস্থিতি ঘোষণাপত্রকে পূর্ণতা দেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ঘোষণাপত্রের ২৫ ও ২৭ নম্বর ধারায় বর্তমান সংবিধানেই তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে, যা এনসিপির নতুন সংবিধানের দাবি উপেক্ষার সামিল।
তার মতে, রাজনৈতিক ঐকমত্যে যেসব সংস্কার গৃহীত হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে এখনো কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। তাই নির্বাচনের পূর্বেই সংস্কার বাস্তবায়ন, বিচার নিশ্চিত ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রতিশ্রুতি সরকারকে দিতে হবে।
মন্তব্য করুন