জুলিয়া জাহান
১১ জুলাই ২০২৫, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শোকে বাড়ছে রোগের চাপ জুলাই স্বাস্থ্য কার্ডের দাবী শহীদ পরিবারের

শোকে বাড়ছে রোগের চাপ জুলাই স্বাস্থ্য কার্ডের দাবী শহীদ পরিবারের

গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে সারা দেশে চলা গণ-আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল পটুয়াখালী। আন্দোলনকালে এই জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ২৫ জন আন্দোলনকারী—যাদের শহীদ ঘোষণা করা হয় পরবর্তীতে। আহত হন আরও ১৮৫ জন, যাঁরা পরিচিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে।
কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও শহীদদের পরিবারগুলোর জীবনে ফেরেনি স্বস্তি বা স্বাভাবিকতা। বরং স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা এবং শারীরিক ও মানসিক রোগের চাপ। বহু পরিবার আজ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি—কারও ঘর নেই, কারও উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়েছে, আবার কারও শিশুসন্তান সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হচ্ছে।

শহীদ পরিবারগুলোর অধিকাংশই নিম্নআয়ের মানুষ। যাঁরা আন্দোলনে নিহত হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ফলে মৃত্যু শুধু একজন সদস্যকে কেড়ে নেয়নি, পুরো পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।

এই পরিবারগুলোর ভাঙনের শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দিয়ে, পরে তা ছড়িয়ে পড়েছে সম্পর্কের বন্ধন ও মানসিক স্বাস্থ্যেও। দুঃশ্চিন্তা, বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগ বাসা বেঁধেছে শহীদ পরিবারে। চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য না থাকায় রোগ আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।

কিছু পরিবার আজ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে। কেউ ভাড়া বাড়িতে থেকেও মাস শেষে ভাড়া দিতে পারছে না। কেউ বাধ্য হয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েকে পাঠাচ্ছে শ্রমবাজারে—গার্মেন্টস, চায়ের দোকান, এমনকি নির্মাণ কাজেও। স্কুলে ফেরা তো দূরের কথা, অনেকে এখন দুই বেলা খাবার নিশ্চিত করতেই ব্যস্ত।

সরকারের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য ‘জুলাই যোদ্ধা স্বাস্থ্য কার্ড’ চালু থাকলেও শহীদদের পরিবার এই সুবিধার বাইরে থেকে গেছে। পরিবারগুলোর দাবি, আহতদের মতো শহীদদের স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবাকেও এই কার্ডের আওতায় আনতে হবে। তাঁরা অন্তত ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেতে চান—যাতে প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামে আরেকটু সহনীয়তা আসে।

শহীদ বাচ্চু হাওলাদারের স্ত্রী লাইলী বেগম বলেন, “ছেলেটার বয়স মাত্র ১৪। স্কুলে থাকার কথা ছিল ওর। কিন্তু স্বামীকে হারিয়ে সংসার চালাতে পারছি না। বাধ্য হয়ে ওকে ঢাকায় পাঠিয়েছি কাজে। নিজের ওষুধ কেনার টাকাও নেই।”

শহীদ রায়হানের বাবা কামাল আকন বলেন, “ছেলেকে হারিয়ে আমিও এখন রোগী। হৃদরোগ, ডায়াবেটিসে ভুগছি। চিকিৎসা করাতে পারি না। রাষ্ট্রের জন্য ছেলেকে দিয়েছি, কিন্তু এখন পরিবারসহ ধুকে ধুকে মরছি।” আমার স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েটাও রোগে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তোফাজ্জেল হোসেন জানান, “যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, তাদের পরিবার আজ পথে বসার মতো অবস্থা। স্বাস্থ্য কার্ড, ঘর, সহায়তা—সব কিছুরই দরকার আছে। সরকার দ্রুত কিছু না করলে এরা ভেঙে পড়বে।”

সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর আওতায় তারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। শহীদ পরিবারের দাবীর বিষয়েও প্রস্তাবনা পাঠানো যেতে পারে।”

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্পের ইউ-টার্ন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি

সিদ্ধিরগঞ্জে অর্ধশতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোনারগাঁয়ে ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, কেন্দ্রসচিবকে অব্যাহতি

সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে এমপি, ইউএনও

সোনারগাঁয়ে যাত্রীবেশে কৌশলে অটো-মিশুক ছিনতাই

সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে খোকন মেমোরিয়াল হসপিটাল

এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৩৭ শিক্ষার্থী

সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতা চাইলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ

দৌলতপুরে ব্রাশফায়ারে গুলিবিদ্ধ ১০

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন তফসিল ঘোষণা

১০

কিশোরগঞ্জে ফিরলেন পরিচিত মুখ: নতুন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন

১১

জ্বালানিতে সংকট নয়, ‘প্যানিক বায়িং’-এ কৃত্রিম সংকট

১২

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সরকারের

১৩

সাংবাদিক নূরনবী জনির মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে দোয়া কামনা

১৪

বিতর্কিত ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্রকে পদায়ন: এলাকাবাসীর ক্ষোভ

১৫

প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে কালীগঞ্জ পৌরসভায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

১৬

আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৭

হাঙ্গেরিতে পা রাখলেই গ্রেপ্তার হবেন নেতানিয়াহু: হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

১৮

তীব্র লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত দেশ

১৯

চুক্তি না হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

২০