
ইসলাম মানবকল্যাণ ও কৃতজ্ঞতাবোধকে ইমানি গুণ হিসেবে বিবেচনা করে। মানুষের উপকার করা ও সহানুভূতিশীল হওয়া ইসলামে শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এক ধরনের ইবাদত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন— “তোমরা সৎকাজ ও আল্লাহভীতির ব্যাপারে একে অপরকে সহায়তা করো।” (সুরা মায়েদা-২)। আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, “যে একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।” (সুরা মায়েদা-৩২)।
রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে প্রিয়, যে মানুষকে সবচেয়ে বেশি উপকার করে।” (আল-মুজাম আল-আওসাত)।
অন্য হাদিসে তিনি বলেন, “তোমরা মানুষকে উপকার করো, আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন।” আর, “তোমরা জগৎবাসীর ওপর দয়া করো, আসমানের মালিক তোমাদের ওপর দয়া করবেন।” (তিরমিজি)।
মানবকল্যাণ মানে কেবল দান-খয়রাত নয়; অসুস্থের সেবা, ভালো পরামর্শ, দুঃখীকে সান্ত্বনা দেওয়া, কারও পথ দেখানো, এমনকি কারও কষ্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনাও এর অন্তর্ভুক্ত।
উপকারের বিনিময়ে কিছু চাওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আমরা তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের লক্ষ্য।” (সুরা আদ দাহর: ৮-৯)।
এছাড়া ইসলামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়।” (তিরমিজি)।
একজন মুসলমানের উচিত, মানুষের উপকারে এগিয়ে আসা এবং কোনো উপকার পেলে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এটি সমাজকে করে তোলে সহানুভূতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও আল্লাহভীতির বাতাবরণে গড়া একটি আদর্শিক সমাজ।
মন্তব্য করুন