
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত “জুলাই স্মৃতি উদযাপন” অনুষ্ঠানমালায় ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন – কুমিল্লা জেলা শাখা।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত অনুষ্ঠানসূচিতে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনের স্মৃতি চিহ্নিত করা হলেও সেখানে ১১ জুলাই-এর ঘটনা অনুপস্থিত থাকায় কুমিল্লার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র মো. এমরান জানান, সেদিন পুলিশের হামলায় তার হাত ভেঙে যায়। রাত ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। অথচ এমন তাৎপর্যপূর্ণ দিনটিকে স্মৃতি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া অনুচিত।
আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আরাফ ভূইয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমরা সন্দেহ করছি—ইতিহাসকে ঢাকা কেন্দ্রিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটা ইতিহাস বিকৃতি।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ সাকিব হুসাইন বলেন, “এই দিনেই প্রথম হামলা হয়, প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। তারপর সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এমন দিনের স্বীকৃতি না দেওয়া হলে ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।”
১১ জুলাই কুমিল্লায় হামলার প্রতিবাদে আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও বিবৃতি দেয়। এমনকি ওই ঘটনার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন এনসিপির দুই নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম, যাদের উপস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাও হয়।
দাবি উঠেছে, ১১ জুলাইকে ‘প্রথম হামলা ও প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে, কুমিল্লার শিক্ষার্থীদের অবদানকে “জুলাই স্মৃতি উদযাপন”-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন তারা।
মন্তব্য করুন