
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ইছাপুরা এলাকায় আনন্দের মুহূর্ত পরিণত হলো বিষাদে। নরসিংদীর বাসিন্দা, মাত্র ২৯ বছরের যুবক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৃজন সাহা বালু নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন নদীর প্রবল স্রোতে। দুইদিন পর ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকাজুড়ে।
১৫ জুন, রোববার বিকেলে পরিবারের সঙ্গে নানা’র শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইছাপুরায় আসেন সৃজন সাহা। অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে স্থানীয় বালু নদীতে গোসলে নামেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই সূর্য সাহা, যিনি মোবাইলে গোসলের দৃশ্য ধারণ করছিলেন। হঠাৎ নদীর স্রোতে ডুবে যান সৃজন—আর ফিরে আসা হয়নি।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টার পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন রাজধানী ঢাকা সদরঘাটের বিশেষ ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।
অবশেষে আজ, ঘটনার দুইদিন পর সকালে পাতিরা এলাকার পিডিএল ঘাট থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে নদীতে ভেসে ওঠে সৃজন সাহার মরদেহ। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করেন।
পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার উদ্দীপন ভক্ত জানান, “ঘটনার পর থেকেই আমরা টানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গেছি। আজ সকালে নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।”
সৃজন সাহার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ ইছাপুরা। ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা। ছোট ভাই সূর্য সাহা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন—নিজ চোখে ভাইয়ের শেষ মুহূর্ত দেখার যন্ত্রণায়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে নদী নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা নিয়েও।
মন্তব্য করুন