
ভোলার লালমোহন উপজেলায় মো; ফাহিম , (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নে ২ নং ওয়ার্ডে বিচ্ছিন্ন চর কচুয়া খালি থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যুবক ফাহিম ওই এলাকার রুহুল আমিনের খেজুর ছেলে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে ফাহিম কে মারধর করে তার ঘরে নিয়ে তার মরদেহ ঘরে নিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভিযোগ করে ওই যুবকের বাবা রুহুল আমিন হেজু।
তিনি জানান বিয়ে করার পরে স্ত্রীর সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকত ফাহিম। ঈদের দিন শনিবার সকালে আমি তাদের দাওয়াত দিই। এরপর তারা এসে দুপুরের খাবার খায়। তবে বিকেলের দিকে কাউকে কিছু না বলে ফাহিমের স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর ফাহিম এলাকার অন্যান্যদের সাথে কেরাম খেলছিল। সন্ধ্যার দিকে তার স্ত্রী লোক পাঠিয়ে ডাকলে সে তার স্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে গালাগালি করে।
এ সময় তার পাশে থাকা ভায়রা এসব কথা শুনতে পেয়ে বাড়িতে এসে শ্বশুর সহ অন্যান্যদের জানান। তিনি আরো জানান এরপর রাতে আমার ছেলে ফাহিমকে ফোনে কল করে ডেকে নেন তার শশুর আব্দুল খালেক। সেখানে নেই ওই গালিগালাজের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা। একপর্যায়ে ফাহিমের শশুর শালা ভায়রা সহ কয়েকজন মিলে বেধরক মারধর করে। তাদের এই মারধরের কারণে ফাহিমের মৃত্যু হয়।
এক পর্যায়ে মারা গেলে তার ঘরে নিয়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ভোরে আমার স্ত্রী রহিমা বিবি তাকে খুঁজতে যায় ফাহিমের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে। এরপর ঘরের জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখতে পান ফাহিম গলায় দরি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলানো। এরপর আমার স্ত্রীর ডাক চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন থানার পুলিশকে খবর দেন।
এ ব্যাপারে যুবক ফাহিমের শ্বশুর আব্দুল খালেক বলেন আমার মেয়ে কয়েকদিন ধরে আমার বাড়িতে বেড়াচ্ছে। যার জন্য আমার জামাই আমার বাড়িতে আসেন এরপর তিনি রাতে আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। সে রাতের বেলা যেতে রাজি হয়নি এজন্য জামাই জেগে গিয়ে আমার ছোট মেয়েকে লাথি মারে। এজন্য আমার আরেক জামাই ক্ষিপ্ত হয়ে থাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনা শুধু এটুকের জন্য আর বেশি কিছু না। তাকে কোন ধরনের মারধর করা হয় না। হয়তো অভিমানে জামাই আত্মহত্যা করেছে।
এ বিষয লালমোহন থানার ওসি তদন্ত মাসুদ হাওলাদার খবর পেয়ে লালমোহন থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরে ওই যুবকের মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়।
মন্তব্য করুন