কুমিল্লা নগরীর ডুলীপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘নিউ যত্ন’ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে কাজী সোহেল (৩৫) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জনতার বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও রোগীদের গণপালানোর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নিহত সোহেল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার উত্তর শীলমুড়ি ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন মাস ১২ দিন আগে সোহেলকে ‘নিউ যত্ন’ নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করে খাবার দিয়ে যান। সন্ধ্যায় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, সোহেল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে সোহেলকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
খবর পেয়ে স্বজনরা নিরাময় কেন্দ্রে ছুটে গেলে সেখানে জড়ো হয় শত শত মানুষ। মরদেহ দেখে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। একপর্যায়ে শুরু হয় বিক্ষোভ ও ভাঙচুর। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রের অন্তত ৮০ জন রোগী পালিয়ে যান। পালানোর সময় এনামুল হক নামক একরোগী তিনতলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই কেন্দ্রের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে সর্বোচ্চ ১০ জন রোগী রাখার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে সেখানে ৮২ জন রোগী রাখা হয়েছিল। ভবনটিতে ছিল না কোনো সিসি ক্যামেরা।
নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। চিকিৎসাধীন নিলয় নামে এক রোগী জানান, মৃত্যুর আগের রাতেই (২২ মে) সোহেলকে বেদম মারধর করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই নির্যাতনের জেরেই সোহেল আত্মহত্যায় বাধ্য হন।
কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, উত্তেজিত জনতার কারণে প্রথমদিকে পুলিশের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। পরে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ও সদর দক্ষিন উভয় থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সোহেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও নিরাময় কেন্দ্রের অনিয়ম-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন