বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম শেষ হওয়ায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবরোধ ও আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল ৫টায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
এর আগে সোমবার রাত ১১টা থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। আজ দুপুর পর্যন্ত অনশন চলাকালে অন্তত চারজন শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৯ম ব্যাচের রবিউল ইসলামকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে আরও তিনজন অসুস্থ হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানান, অনশন, পানিশূন্যতা ও তীব্র গরমের কারণে তাদের রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “শূচিতা শরমিনের পদত্যাগ না হলে, আমার কফিন এখান থেকেই যাবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘যৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “২৮ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা এক স্বৈরাচার উপাচার্যের অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে এতদিনেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুঃখজনক।”
মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের আন্দোলনকারী মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমরা গতকালই শেষ আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। এখন আর পেছনে ফেরার পথ নেই। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়বো না।”
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, চলমান আন্দোলনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষক প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর, হলের আবাসিক শিক্ষক, আইকিউএসি ও গেস্ট হাউজের পরিচালকসহ অনেকে।
এছাড়া ৪৬ জন শিক্ষক এক যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং উপাচার্যের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
|
২২ এপ্রিল, ২০২৬