বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা এবার দক্ষিণাঞ্চল অচলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সোমবার (১২ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত ছাত্র-শিক্ষক সংহতি সমাবেশে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে দীর্ঘ ২৮ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক শিক্ষার্থী ভূমিকা ভূমি বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—এই ভিসিকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আমরা দক্ষিণাঞ্চলের রাস্তায় নেমে কঠোর কর্মসূচি পালন করব।”
আরেক শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, “আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এর মধ্যে দাবি মেনে না নিলে দক্ষিণবঙ্গ কার্যত অচল করে দেওয়া হবে।”
আন্দোলনের আরেক সংবেদনশীল দিক তুলে ধরেন শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বোন জিমির চিকিৎসার জন্য ভিসির সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কোনো সাড়া না পেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এমন এক উপাচার্য, যিনি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান না, তাকে আমরা চাই না।”
শিক্ষক সমর্থনও মিলেছে শিক্ষার্থীদের এই দাবিতে। কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, “এই ফ্যাসিস্ট মনোভাবের উপাচার্যের কারণে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষায় আমরা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে পাশে আছি।”
উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান এই আন্দোলন এক মাস পার করেছে এবং এখন তা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন