বাংলাদেশ টেস্ট দলে কিছু ক্রিকেটারের বারবার সুযোগ পাওয়া এখন প্রশ্নবিদ্ধ এক সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে। মাহমুদুল হাসান জয় এবং সাদমান ইসলাম—দুজনই দীর্ঘদিন ধরে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন জাতীয় দলে, কিন্তু তাদের পরিসংখ্যান প্রশ্ন তোলে, এই সুযোগ কি আদৌ প্রাপ্য?
মাহমুদুল হাসান জয় খেলেছেন ১৮টি টেস্ট, করেছেন মাত্র ৭৪২ রান। গড় ২২-এর নিচে, উল্লেখযোগ্য কোনো ম্যাচজয়ী ইনিংসও নেই। সাদমান ইসলাম খেলেছেন ২১ টেস্ট, এখনো পৌঁছাননি ১০০০ রানে। তবু তাদের জায়গা প্রায় ‘নিশ্চিত’।
অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক রান করা অনেক ব্যাটসম্যান বছরের পর বছর জাতীয় দলের আশায় থাকলেও নির্বাচকদের নজরে আসতে পারছেন না।
নাঈম শেখ, আনামুল হক বিজয়, অমিত হাসান—তাদের পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, তারা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করছেন এনসিএল, বিসিএল, ডিপিএল এমনকি বিপিএলেও।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বারবার বলেছে—“পারফরম্যান্সই হবে নির্বাচনের মাপকাঠি।” কিন্তু বাস্তবতা বলছে, নির্বাচনী নীতিতে কোনো স্বচ্ছতা নেই। যারা ফর্মে নেই, তারাও সুযোগ পাচ্ছেন বারবার। পক্ষপাতমূলক এই ধারা দলীয় প্রতিযোগিতা কমাচ্ছে, খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি করছে হতাশা।
বর্তমান বাস্তবতায় টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল বড্ড বিবর্ণ। এই অবস্থায় ফর্ম নয়, নাম দেখে খেলোয়াড় বাছাই করলে তা আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
“যে রান করবে, সে খেলবে” — এই নিয়ম প্রতিষ্ঠা না হলে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশকে আবারও দাঁড় করানো কঠিন হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন