অপরিশোধিত তেলের সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে কারখানাটিতে সর্বশেষ পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে—দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল এবং সংরক্ষণ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করেও কিছুদিন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
সাধারণত এই শোধনাগারে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকেই তা কমিয়ে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়।
গত মার্চের শুরুতে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তেল সংকটের কারণে শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই অপরিশোধিত তেল, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এনে এই শোধনাগারে পরিশোধন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সেই পর্যন্ত শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন