বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয় নয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী Paul Kapur-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো এই চুক্তিতেও ভবিষ্যতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলার। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
সম্প্রতি ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে দেশে যে সমালোচনা হয়েছে—সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিকেই একপাক্ষিকভাবে ইতিবাচক বা নেতিবাচক বলা যায় না। কিছু ধারা এক পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের অনুকূলে থাকে।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি এবং বাস্তবতার অংশ। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
মার্কিন আদালতে জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত শুল্কসংক্রান্ত রায়ের বিষয়ে সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
ভিসা বন্ড ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
সবশেষে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন