শরীয়াহ ভিত্তিক নিকাহ প্ল্যাটফর্ম ‘আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরো’র প্রতিষ্ঠাতা মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার তৃতীয় স্ত্রী পরিচয়ে এক নারী।
তামান্না হাতুন নামে পরিচিত ওই নারী বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্টে জানান, তিনি গত এক বছর ধরে কাসেমীর সঙ্গে মৌখিকভাবে সংসার করছিলেন। দশ হাজার টাকার কাবিনে সম্পন্ন হয় বিয়েটি। কিন্তু এর মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরোর মাধ্যমে নারীদের অল্প সময়ের কন্টাক্ট বিয়েতে যুক্ত করা হয়— কখনও এক মাস, কখনও দুই মাসের জন্য, বড়লোকদের সঙ্গে।
তামান্না হাতুন অভিযোগ করেন, “যখন সেই পুরুষরা তাদের ছেড়ে দেয়, তখন বলা হয়, ‘বউ বেশি তর্ক করে তাই তালাক দিয়েছি।’ এইভাবে ধর্ম ও শরীয়াহর নামে নারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, এরকম বিষয় নিয়ে মুফতি কাসেমীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়, এবং একপর্যায়ে তিনি মুখে তালাক দেন। এরপরও কাসেমী তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন এবং গর্ভবতী হওয়ার পর তাকে ঘর থেকে বের করে দেন।
তামান্না বলেন, “আমি যখন ডাক্তার দেখিয়ে জানালাম আমি গর্ভবতী, তখন কাসেমী আমাকে বলেন— ‘এ সন্তান অবৈধ, ফেলে দাও’। পরে তার সহযোগীদের সহায়তায় জোর করে আমাকে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করা হয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার তিন দিন পর কাসেমী কুষ্টিয়াতে গিয়ে ১৩ বছরের এক মেয়েকে বিয়ে করেন, যা এখনো প্রকাশ করেননি।
১৪ অক্টোবর তিনি মুফতি কাসেমীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি আরও জানান, “আমি ভেবেছিলাম আমি ইসলামী নিকাহ ভিত্তিক একটা ভালো কাজের সঙ্গে আছি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, প্রতারণার সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গায় জড়িয়ে গেছি।”
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন