দেশে জ্বালানি তেলের কোনো বড় সংকট নেই—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘প্যানিক বায়িং’—অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতের কারণে তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী।
উপদেষ্টা বলেন, সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান—রাজধানীর একটি পাম্পে গত বছর পুরো মাসে যে পরিমাণ অকটেন সরবরাহ করা হয়েছিল, চলতি বছরের এপ্রিলের মাত্র ১৯ দিনেই প্রায় সেই পরিমাণ সরবরাহ হয়ে গেছে।
ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন—সব ক্ষেত্রেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি জ্বালানি কিনছে, যা বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েল—সব মিলিয়ে পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের অধীন কোম্পানিগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ডিজেল ও পেট্রোল ১০ শতাংশ এবং অকটেন ২০ শতাংশ বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ৫৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪৭টি মামলায় এক কোটি ৭২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে এবং ১০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানিও উদ্ধার করা হয়েছে, যা সংকটের পেছনে কৃত্রিম মজুতের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে।
এছাড়া জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল চালক এতে নিবন্ধন করেছেন।
গণপরিবহনের ভাড়া প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সরকার ভোক্তা ও পরিবহন মালিক—দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় কাজ করছে, যাতে ভাড়া বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না সৃষ্টি করে।
সব মিলিয়ে সরকার বলছে—সংকট নয়, আতঙ্কই এখন বড় সমস্যা। আর এই আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে আনলেই জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
মন্তব্য করুন