নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুদসহ কৃষকদের প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, যা এ মওকুফের আওতায় আসবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়ে তারা উন্নত মানের বীজ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ও উৎপাদন বৃদ্ধিমুখী উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ফলে কৃষিতে উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।
এছাড়া ঋণের বোঝা কমে গেলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড উন্নত হবে, যা ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে নতুন ঋণ গ্রহণে সহায়ক হবে। এতে উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র সরকারের সময় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা সে সময় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
মন্তব্য করুন