ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি এখন বড় ধরনের সংকটে। একসময় যে বাজারগুলো ভারতের ওপর ভরসা করত—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—সেগুলো এখন ভারতকে এড়িয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। দেশের কৃষি ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের ধারাবাহিক নীতি পরিবর্তন, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে দীর্ঘ অনুপস্থিতির ফলে বহু বছরের আধিপত্য ভেঙে পড়ছে।
গত অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল। কিন্তু চলতি বছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন। বাংলাদেশ এখন স্থানীয় উৎপাদনে আত্মনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছে এবং কৃষকদের সুরক্ষায় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ভারতের আচমকা নিষেধাজ্ঞা আর নীতি বদল ধারাবাহিকভাবে বাজারে আস্থা নষ্ট করেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ভারত বহুবার রপ্তানি বন্ধ করায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন উৎস খুঁজে নেয়। পাকিস্তান, চীন, ইয়েমেন ও ইরান এখন পেঁয়াজ রপ্তানিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।
এদিকে সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ নিচ্ছে না। দেশটি এখন সস্তায় পেঁয়াজ পাচ্ছে ইয়েমেন ও ইরান থেকে। স্থানীয় উৎপাদনও বেড়েছে। ফলে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় শূন্যের দিকে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতীয় পেঁয়াজের উন্নত বীজ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার হচ্ছে। ওই বীজ দিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা নিজেদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে, ফলে ভারত তারই প্রতিযোগীর মুখোমুখি হচ্ছে।
রপ্তানিকারকদের মতে, ভারতের নীতিগত অস্থিরতা এবং বাজারে অনুপস্থিতির সুযোগে ক্রেতারা এখন পুরোপুরি নতুন উৎসে স্থায়ী হচ্ছে। আর ভারত এখন অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণেই বেশি ব্যস্ত। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মন্তব্য করুন