ভূমিকম্প পৃথিবীর অন্যতম স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক ঘটনা। এ নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও অনেকের মধ্যেই এখনো রয়েছে ভুল ধারণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মূল উৎপত্তি পৃথিবীর গভীরে লুকিয়ে থাকা টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার মধ্যেই।
পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ গঠিত কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেট দিয়ে। এই প্লেটগুলো সবসময় খুব ধীরে সরে চলে। কখনো একটি প্লেট অন্যটির সঙ্গে ধাক্কা খায়, কখনো আবার একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যায়, কিংবা পাশাপাশি সরে যেতে থাকে। এসব নড়াচড়ার ফলে ভূগর্ভে দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকে প্রচণ্ড চাপ। কোনো এক পর্যায়ে এই চাপ হঠাৎ ভেঙে গেলে অথবা সরে গেলে যে শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে, সেটাই ভূমিকম্প হিসেবে অনুভূত হয়।
ভূতত্ত্ববিদরা জানান, মাটির গভীরে যে স্থানে কম্পনের সূচনা হয় তাকে বলা হয় হাইপোসেন্টার, আর ভূ-পৃষ্ঠের ওপর সেই স্থানের সুনির্দিষ্ট বিন্দু হলো এপিসেন্টার। সাধারণত এপিসেন্টারের আশপাশেই কম্পন সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের মাত্রা, বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করে—উৎপত্তিস্থলের গভীরতা, প্লেটের সংঘর্ষের ধরন, এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন ও মাটির শক্তিমত্তাসহ নানা উপাদানের ওপর। তাই একই মাত্রার ভূমিকম্প বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন রকম ক্ষতি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, টেকটোনিক প্লেটের স্বাভাবিক নড়াচড়ার অংশ হিসেবেই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সময়-সময় ছোট-বড় ভূমিকম্প ঘটে থাকে। সংক্ষেপে বললে, ভূগর্ভে জমে থাকা চাপের আকস্মিক মুক্তিই ভূমিকম্পের প্রধান কারণ—এমনটিই জানাচ্ছে আধুনিক ভূবিজ্ঞান।
মন্তব্য করুন