বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রোববার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে তিনি বলেন— সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জায়গা।
বক্তব্যের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একইসঙ্গে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের।
ডেপুটি স্পিকার বিশেষভাবে স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং আজ তিনি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে স্বীকৃত।
এসময় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দ্বার হিসেবে উল্লেখ করেন কায়সার কামাল। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
সংসদ পরিচালনায় নিজের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সরকার ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান তিনি। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শ তুলে ধরে বলেন— আমি সঠিক থাকলে আপনারা সহযোগিতা করবেন, আর ভুল করলে শুধরে দেবেন।
বক্তব্যে সংসদের বৈচিত্র্যও তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, এই সংসদ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল— কারণ এখানে কেউ এসেছেন কারাগারের কন্ডেম সেল থেকে, কেউ দীর্ঘ নির্বাসন থেকে, আবার কেউ গুম ও নির্যাতনের স্মৃতি নিয়ে।
আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে ব্রিটিশ আইনবিদ A. V. Dicey-এর উদ্ধৃতি দেন তিনি। বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়— সরকার হোক বা জনগণ, সবাইকে আইনের অধীনেই থাকতে হবে।
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কায়সার কামাল।
সবশেষে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ— আর আমাদের লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
মন্তব্য করুন