যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক এক মাসের মাথায় দেশজুড়ে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেক্ষাপটে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচি ঘিরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসি-তে সবচেয়ে বড় সমাবেশ দেখা গেছে। পাশাপাশি ইউরোপের রোম, প্যারিস এবং বার্লিন-এও সমর্থনসূচক কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আয়োজকরা এবার বড় শহরের পাশাপাশি রক্ষণশীল এলাকাগুলোতেও মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আন্দোলনের ভৌগোলিক বিস্তারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত বছরের অভিবাসন অভিযান ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা এবং দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় এই অঞ্চলে ক্ষোভ আগে থেকেই তীব্র ছিল। বিক্ষোভকারীরা ওই ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং নিহতদের স্মরণ করেন।
সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না।”
এছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকারাও এই আন্দোলনে সংহতি জানান। ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং জোয়ান বায়েজ সংগীত পরিবেশন করেন। অন্যদিকে রবার্ট ডি নিরো ভিডিও বার্তায় বিক্ষোভকারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্ট-এর আশপাশে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। সেখানে সরকারবিরোধী নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
এর আগে গত বছর জুন ও অক্টোবরে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের দুটি বড় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার সুযোগে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।
মন্তব্য করুন