রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার (৯ এপ্রিল) রায় ঘোষণা করেছে।
ট্রাইব্যুনাল রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া আরও তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন – সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায়।
এছাড়া, বেরোবি শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর এবং আরও পাঁচ নেতাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার হয়েছেন। তারা হলেন – বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, সাবেক এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
বাকি ২৪ জন পলাতক রয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যার ভিডিও দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন এবং পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি চালাচ্ছে।
এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৪ জুন ২০২৫ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট মামলা শুরু হয়, ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। এটি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মন্তব্য করুন