কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও আলোচিত ইসলামি বক্তা আমির হামজা-র নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে করা ‘বডি শেমিং’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদে পাশে বসা নারী এমপিদের নিয়ে কটূক্তি করছেন তিনি। ভিডিওতে তিনি বিশেষভাবে রুমিন ফারহানা এবং নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন-কে উদ্দেশ করে শারীরিক গঠন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ-এর নামও উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, সংসদে তার ডান-বামে বসা নারী সদস্যদের শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং অশালীন মন্তব্য করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নারী সংসদ সদস্যরা।
রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, “এই মন্তব্য নতুন কিছু নয়। তার অতীত রেকর্ড বিবেচনায় এটি প্রত্যাশিত।” তিনি আরও বলেন, সংসদে নির্দিষ্ট আসন বিন্যাস থাকে—এই মৌলিক বিষয়টিও তিনি জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীদের প্রতি একটি নেতিবাচক ও বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তার ভাষায়, “এটি একটি নারী বিদ্বেষী মানসিকতার প্রকাশ, যা একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে কাম্য নয়।”
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, “এই বিষয়ে কথা বলাও আমার মর্যাদার নিচে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ ধরনের মন্তব্য শুধু নারী এমপিদের নয়, পুরো সংসদ এবং দেশের সব নারীকেই অপমান করেছে।
তিনি আরও বলেন, “এতে এমনকি তার নিজের মা-ও অপমানিত হয়েছেন।” তবে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই মন্তব্য একজন রাজনীতিকের ‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’ পরিচয় বহন করে।
তার ভাষায়, “যারা নারীদের মানুষ হিসেবে দেখে না, তারা কীভাবে নেতৃত্ব দেবে—এটি বড় প্রশ্ন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধর্মের নামে নারীদের দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না।
সব মিলিয়ে, একজন সংসদ সদস্যের এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে শালীনতা, নারীর প্রতি সম্মান এবং সংসদীয় আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মন্তব্য করুন