জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘সত্য’ ও ‘মিথ্যা’ শব্দকে কেন্দ্র করে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা। সেখানেই তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ থেকে আগের দিন বেরিয়ে যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। এর জবাবে তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা তাকে এমন দক্ষতা দিয়েছেন যে, তিনি বোতল পরিবর্তন করে একই উপাদান রেখে সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।”
এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তবে তার এই বক্তব্যের সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করে জানান, বিষয়টি আগের দিনের এবং নতুন করে তা উত্থাপনের প্রয়োজন নেই।
এরপরই পাল্টা জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় আখ্যা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই মুহূর্তে বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। ‘মিথ্যা’ শব্দটি অসংসদীয়। তিনি যদি ‘অসত্য’ বলতেন, তাহলে আমার আপত্তি থাকত না।”
তিনি স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান, উক্ত শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়া হোক।
এছাড়া আগের দিনের বক্তব্য প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে ‘অসত্য’ বলেছিলেন নির্দিষ্ট সংসদীয় প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।
তার দাবি, সংসদের কার্যপ্রণালির রুল ৬২ অনুযায়ী, বিরোধীদল ওয়াকআউট করার অনেক পরে একজন বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। ফলে সেই প্রস্তাব আগে উপস্থাপন করা হয়েছে—এমন দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়।
এই যুক্তির ভিত্তিতেই তিনি বিরোধীদলীয় নেতার আগের দিনের বক্তব্যকে অসত্য বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান।
সব মিলিয়ে, ‘সত্য’ ও ‘মিথ্যা’ শব্দের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সংসদে তৈরি হয়েছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন