‘বাহাত্তরের সংবিধান’ বাতিল বা ছুড়ে ফেলার বিতর্কে আবারও আলোচনায় এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র একটি পুরোনো বক্তব্য।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির কিছু নেতার দাবি—খালেদা জিয়াও নাকি সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক ও ভিন্ন ব্যাখ্যা।
জাতীয় সংসদে এ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত, তাই এটি বাতিলের প্রশ্নই আসে না।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ প্রশ্ন তোলেন—সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলার কথা বলা হবে?
এদিকে এনসিপি ও জামায়াতের কয়েকজন সংসদ সদস্য দাবি করেন, খালেদা জিয়া নিজেই একসময় এই সংবিধান বাতিলের কথা বলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের সময় তিনি বলেছিলেন—জনগণের সরকার এলে ‘এসব সংশোধনী’ ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, তিনি পুরো সংবিধান নয়, বরং নির্দিষ্ট সংশোধনী বাতিলের কথাই বলেছিলেন।
বিএনপির তৎকালীন নেতা মওদুদ আহমদ-ও সে সময় স্পষ্ট করেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যের অর্থ ছিল পঞ্চদশ সংশোধনী পরিবর্তন করা—সংবিধান বাতিল নয়।
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ নিয়ে এখনো মতভেদ রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন