ইরানের জ্বালানি তেল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি ব্রিটিশ দৈনিক Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই তার অন্যতম পছন্দের পরিকল্পনা। একই সঙ্গে খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
তার ভাষায়, “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, আবার হয়তো নেব না—আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে।”
খারগ দ্বীপকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা মানে কার্যত ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করা।
এমন অবস্থায় ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল। তার ভাষায়, “আমার মনে হয় না তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি।”
সাক্ষাৎকারে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা-এর উদাহরণ টানেন। বলেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতির মিল রয়েছে।
গত জানুয়ারিতে রাজধানী কারাকাস-এ মার্কিন সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার দাবি, এরপর থেকে দেশটির জ্বালানি খাত একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল সম্পদ ও কৌশলগত স্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো এমন প্রকাশ্য বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কারণ, ইতোমধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন