মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা জড়ো করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বাহিনীকে দিয়ে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযান চালানো হতে পারে। তবে এটি প্রচলিত বড় আকারের স্থল যুদ্ধের মতো হবে না, বরং সীমিত পরিসরে বিশেষ বাহিনীর অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা চলমান যুদ্ধে ‘নতুন ধাপ’ সৃষ্টি করবে এবং মার্কিন সেনাদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়বে। কারণ, অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী অস্ত্রের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই অভিযানে মূলত স্পেশাল ফোর্স এবং কামান ইউনিট ব্যবহার করা হতে পারে। তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত রেইড চালাবে, যা প্রচলিত স্থল যুদ্ধের চেয়ে ভিন্ন কৌশল।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। তবে পরিকল্পনা করা মানেই যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— এমন নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে খার্গ দ্বীপ-কে। এটি হরমুজ প্রণালী-এর কাছে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেখান থেকে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপে আঘাত হানা হলে শুধু ইরান নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলার পথে এগোয়, তাহলে এটি সংঘাতকে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন