মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চলমান সংঘাতের মধ্যেই এবার নতুন সামরিক কৌশল সামনে এনেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটি আর শুধু প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ নেই—বরং ‘আঘাতের বদলে আঘাত’ নীতিতে এগোচ্ছে।
সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, Islamic Revolutionary Guard Corps বা আইআরজিসি এখন ‘অফেন্সিভ ডিফেন্স’ বা আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশল বাস্তবায়নে সক্রিয়। অর্থাৎ, শত্রু আক্রমণ করলে শুধু প্রতিরোধ নয়, সরাসরি পাল্টা হামলায় শত্রুর ঘাঁটি ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য।
এ কৌশলের আওতায় শুধু দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং সীমান্ত সংলগ্ন শত্রু ঘাঁটিগুলোও এখন টার্গেটে রয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইল এবং পশ্চিমা মিত্রদের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের সংঘাতে যেখানে আকাশপথ ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ছিল মূল ভরসা, এবার সেখানে বড় ভূমিকা নিচ্ছে স্থলবাহিনী। ইরানের সেনা ও আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্স এখন সীমান্তজুড়ে ‘হাই অ্যালার্ট’-এ অবস্থান করছে। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পশ্চিম সীমান্তে যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা প্রস্তুত।
এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু মহড়া নয়—বরং সম্ভাব্য যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির মহড়া।
ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কেউ যদি সরাসরি সীমান্তে হামলা না-ও চালায়, কিন্তু দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে, তাহলেও তারা সীমান্ত পেরিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে। অর্থাৎ, যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ভূমিকাও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অবস্থান পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে এখন এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন