ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। কোনো আগাম ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই তার এই অনুপস্থিতি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা এবং শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ১৬তম দিনে প্রধানমন্ত্রীর জনসমক্ষে না আসা বা গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অংশ না নেওয়া অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ ঘটনা। রোববারের বৈঠকে তার আসন খালি থাকায় জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুর গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর গোপন আস্তানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত আহত বা নিহত। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই দাবিকে ভিত্তিহীন বা ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন, তবে নেটিজেনরা তার হাতের ছয়টি আঙুল এবং অঙ্গভঙ্গি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফ্যাক্ট-চেকাররা এটিকে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল বা লেন্সের কারসাজি বললেও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ নীরবতা এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি নেতানিয়াহু বেঁচে থাকেন, তবে তাকে খুঁজে বের করে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার অবস্থান নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন