মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
এই পরিস্থিতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় তিনি আগ্রহী নন।
তার মতে, যতক্ষণ না ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস হচ্ছে অথবা বর্তমান নেতৃত্ব ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছে, ততক্ষণ এই সংঘাত থামবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে ইরানে আত্মসমর্পণ করার মতো কোনো নেতা অবশিষ্ট থাকবে না।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলায় যেন তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করা হয়।
তবে তার এই বক্তব্যকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন ইরানের কট্টরপন্থী নেতারা।
এদিকে সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড।
এছাড়া ইসরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
এদিকে লেবানন ও ইরানে শত শত বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বহু বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
কুয়েত ও ইরাক থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন