গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এটি ২০২৬ সালের মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশের সমান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যয়ের প্রধান কারণ হচ্ছে আধুনিক বিমান ও রণতরীর ব্যবহার। মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে চারটি বি-২ স্টিলথ বোম্বার বিরতিহীনভাবে ইরান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। শুধুমাত্র এই বোম্বারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহৃত ২০০০ পাউন্ডের জেডিএএম বোমার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০.২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোর কয়েক দফা আক্রমণ ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে আরও ২৭১.৩৪ মিলিয়ন ডলার।
অভিযানে বিশেষায়িত বিমান যেমন ইএ-১৮জি গ্রাউলার, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কারের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক হাইমার্স ব্যাটারির ব্যবহারে মোট আকাশ ও স্থল সম্পদের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪২৩.৫৭ মিলিয়ন ডলার। সমুদ্রে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী দুটির দৈনিক পরিচালনা ব্যয় ছিল প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নৌবাহিনী প্রায় ২০০টি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ছুঁড়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৪০.৪ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে, একদিনের এই অভিযানেই ব্যয় হয়েছে ৭৭৯.১৭৪ মিলিয়ন ডলার।
এ ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক ব্যয় দুটোই একসঙ্গে হাহাকার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের উচ্চ ব্যয় সহ অভিযান আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
মন্তব্য করুন