রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, চাইলে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করতে পারতেন, কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হবে না। জনগণের প্রকৃত লাভ তখনই হবে, যখন পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যাবে।
দেশের মানুষের জন্য বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তিনি দেশে ফিরে মানুষের কল্যাণে কিছু বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো নারী সমাজ ও খেটে-খাওয়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে একজন গৃহিণী সরকারের পক্ষ থেকে ন্যূনতম সহযোগিতা পাবেন। তিনি বলেন, এতে পুরো সংসার না চললেও মাসের অন্তত এক সপ্তাহের খরচে সহায়তা পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যার মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মানুষের চাহিদার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে হেলথকেয়ার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মা-বোনরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা পান।
তিনি আরও বলেন, এক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যা সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে বেকার তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ তৈরি হয়।
বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এতে তারা বিদেশে ভালো বেতন পাবে এবং দেশ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষের ভোট ও মত প্রকাশের অধিকার দমন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে বিএনপি, আর জনগণই হচ্ছে বিএনপির সব শক্তির উৎস। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি ধানের শীষে ভোট ও সমর্থন চান।
মন্তব্য করুন