দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, ডাকসু সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান। তিনি দাবি করেন, ডাকসু একসময় ‘মাদকের আড্ডা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ ছিল এবং ইসলামী ছাত্রশিবির সেটি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শামীম আহসান বলেন, ডাকসু নির্বাচনে যদি ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাবে এবং দেশ থেকে অন্যায়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি উৎখাত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ঈমানের শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তা ছাত্রশিবিরের সমর্থনের ফল।
শামীম আহসানের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তার মন্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেন।
বিতর্কের মুখে পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন জামায়াত নেতা শামীম আহসান। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অপকর্ম বোঝাতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তার দাবি, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বিজয়ের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার বক্তব্যে যদি কোনো শিক্ষার্থী, ভাই বা বোন কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
মন্তব্য করুন